ভিসা ইন্টারভিউতে সফল হবার জন্য ১০ টি সেরা টিপস

ভাল অ্যাকাডেমিক রিজাল্ট+ ইংরেজিতে ভালো স্কোর+ রাজ্যের সব পেপারস্‌ – এসব কিছু ওকে মানেই… কি ভাবছেন আপনি তা বলে দিতে পারি আমি। ভাবছেন এগুলো ওকে মানেই সেই স্বপ্নের ভিসা!ভুল!আপনার আরও একটা ধাপ যে পেরনো বাকি। আর সেটা হল- ইন্টার্ভিউ!এই রে! এই বুঝি ঘুম হারাম হয়ে গেল!আসলে ছোটবেলা থেকেই ইন্টার্ভিউ শব্দটা শুনলে আমাদের চোখে ভাসে একটা রুমের কথা যেখানে বড় একটা টেবিল ঘিরে আছে রাশভারী, গম্ভীর কিছু মানুষ, আর তাদের মাঝে আমি বসে আছি বেচারার মত, উত্তর দিচ্ছি শুকনো গলায়।এরকম পরিস্থিতি বাস্তবে তৈরি হলেও সেই কঠিন পরিস্থিতি সহজ করা কোন ব্যাপারই না। ভাবছেন অসম্ভব? তবে চলুন, দেখি কিভাবে সেই কঠিন পরিস্থিতি সহজ করে নিয়ে ইন্টার্ভিউতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা যায়।Step 1: submit your application.বুঝতেই পারছেন এটাই প্রথম ধাপ। আপনার সব আশা ভরসার শুরু হয় এই অ্যাপ্লিকেশন সাবমিশনের মাধ্যমে। আপনি যে দেশেই যেতে চান না কেন, সেই দেশ থেকে চাওয়া কাগজপত্র তাদের বলে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী রেডি করে জমা দিতে হবে। তাই কাজগুলো ঠাণ্ডা মাথায় বুঝে বুঝে করবেন।
Step 2: practice your English as often as possible. ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব নতুন করে বলার কিছু নেই। শুধু বলব, আপনি ইন্টার্ভিউতে যাদেরকে সন্তুষ্ট করে তাদের দেশে যাওয়ার টিকিটটা পেতে চান, তাদেরকে অবশ্যই ভাষা দিয়েই খুশি করতে হবে। আর ভাষাটা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই হবে ইংরেজি। তাই এখন থেকেই ইংরেজির অনুশীলন শুরু করে দিন। মনে রাখবেন, আপনার সব ভালো, কিন্তু ভাষাতে সমস্যা, এর মানে গুডবাই! তাই সময় থাকতে বুদ্ধিমান হন। আজাইরা কাজে সময় না দিয়ে একটু একটু করে নিজেকে গড়ে তুলুন।
Step 3: gather all the documentation you need to take to the interview. এটা কারো কারো ভুল হয়। এত এত কাজ ঠিকঠাক করা শেষে দেখা যায় ইন্টার্ভিউ এর দিন অতি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দু-একটা নিতে ভুলে যায়। কি বাজে অবস্থা তৈরি হয় তখন ভাবুন একবার! ঘর ভরা মানুষ আপনার দিকে চেয়ে আছে, আর আপনি ফাইলপত্র ঘেঁটে বলছেন স্যার, ভুলে গেছি আনতে, বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসি? বুঝতেই পারছেন এর পরিণতি কি হতে পারে। তাই আগে থেকেই সব কিছু, আবারও বলি, সব কিছু গুছিয়ে রাখুন।
Step 4: visualize yourself getting a visa. এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সাথে একটু অন্যরকম, আর এটা কিন্তু সবাই পারেও না করতে। কিন্তু আপনি পারবেন ইন শা আল্লহ্‌।আপনাকে কল্পনা করতে হবে যে আপনি ফাটাফাটি ইন্টার্ভিউ দিয়েছেন আর ভিসাও পেয়ে গেছেন। এরকম ভাবতে পারলে দেখবেন মনের মাঝে একটা সুখ-সুখ লাগছে, নিজের আত্মবিশ্বাসও বেশি অনুভব হচ্ছে। ঠিক এই অনুভূতিটাই দরকার। এভাবে ভাবলে দেখবেন নিজের ভেতর একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে আর মানসিক একটা সাপোর্টও পাচ্ছেন।
Step 5: what to do during the interview.ভালো করে পড়ুন এটা! জীবনের সব চিন্তাভাবনা ইন্টার্ভিউ রুমের দরজার সামনে নামিয়ে রেখে তারপরেই ইন্টার্ভিউ ঘরে ঢুকবেন। মনে রাখবেন, আগামী কয়েক মিনিট আপনি অফিসারদের কথা শতভাগ মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। এবং তারা যা জিজ্ঞেস করে ঠিক সেগুলোর উত্তরই আপনি দেবেন। আর উত্তর হতে হবে ছোট এবং প্রাসঙ্গিক। গল্প জুড়ে বসবেন না।
Step 6: prepare an explanation. আপনার দেওয়া কিছু উত্তরের পিঠে একটা ব্যাখ্যা চাইতে পারেন তারা। যেমন কেন আপনি অমুক ভার্সিটিতে যেতে চান, কেন তমুক সাবজেক্ট নিতে চান, কেন দেশেই পড়তে পারছেন না ইত্যাদি। আপনি এগুলোর সুন্দর সুন্দর ব্যাখ্যা মাথায় রেডি করে নিয়েই ওই ঘরে ঢুকবেন। বুঝলেন?
Step 7: talk about ties to your home country. এইখানে অনেকেই ধরা খান। নিজের দেশ সম্পর্কে এত অল্প কথা আর এত কম আগ্রহ কেউ কেউ দেখান যে অফিসাররা বুঝতে পারেন এর মতলব ভালো না। হয়ত পড়াশুনা শেষে দেশে আর ফিরবে না। তাই আপনার খুব ভালভাবে এটা প্রমান করতে হবে আপনার কথার দ্বারা যে আপনি পড়াশুনা শেষে দেশেই ফিরে আসবেন এবং ফিরে আসার পেছনে যথেষ্ট কারণও থাকবে। যেমন, পরিবার, সম্পদ, ব্যবসা- এগুলোই আর কি।
Step 8: talk about your family. মনে রাখবেন পরিবারের প্রতি অনীহা প্রকাশ করাও মারাত্মক ভুল। বাস্তবে যেমনই হোক, পরিবার আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সেটা আপনার কথার মাধ্যমে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে হবে। এবং আপনার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সার্বিক সাপোর্ট কিভাবে আসবে সেটাও বলতে হবে এরকম প্রস্তুতি রাখবেন।
Step 9: be clear that you will return home after graduation. আবারও বলছি, আপনার মনের ইচ্ছা যেটাই থাকুক, সব সময় এটাই বোঝাতে চাইবেন যে গ্রাজুয়েশন শেষে আপনি অবশ্যই দেশে ফিরে আসবেন। আপনি দেশে ফেরার পর কি করবেন তার একটা পরিকল্পনাও জানাতে পারেন তাদের। এতে আপনার বক্তব্য আরও জোরালো হবে ইন শা আল্লহ্‌।
Step 10: stay positive. আর শেষ কথাটা হল, সবসময় পজিটিভ থাকবেন। তিনটা জিনিস মেনে চললে আপনার পজিটিভ মনোভাব প্রকাশ পাবে। ১। আত্মবিশ্বাসী থাকবেন, ২। শান্ত থাকবেন, এবং ৩। হাসবেন। আত্মবিশ্বাস খুব বড় একটা অস্ত্র। এটা আপনার রাখতেই হবে। আর নিজের উত্তেজনা চেপে রাখার চেষ্টা করবেন, মাথা ঠাণ্ডা রেখে মুখে একটা মিষ্টি হাসি রাখবেন। আপনি ওখানে যুদ্ধ করতে যাচ্ছেন না, তাই একটু হাসিখুশি থাকতে সমস্যা কি?
মোটামুটি এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করলে, ইন্টার্ভিউটা অনেকের থেকে আলাদা হবে আশা করা যায়। যে অল্প কিছু মানুষকে ভিসা দেওয়া হয় তাদের মাঝে থাকতে পারেন আপনিও। মনে রাখবেন, ভাগ্য আমাদের হাতে না, আল্লহ্‌’র হাতে। আমরা চেষ্টা করে যাব নিজেদের সেরাটা দিয়ে। দেখি, কে কে রাজি আছেন হাত তুলুন!বাহ! সবাই হাত তুলেছেন দেখছি…
শুভকামনা ও ধন্যবাদ সবাইকে।

Scroll to Top